মালয়েশিয়া ভ্রমণ গাইড

পর্যটন শিল্পে দ্রুত বিকাশমান দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার অবস্থান প্রথম সারিতে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী দেশটি পর্যটন শিল্পে অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করছে। মালয়েশিয়ার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের যত্নের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে যেন আরও জীবন্ত। মালয়েশিয়ায় পর্যটকদের বিচরণের জন্য রয়েছে অনিন্দ সুন্দর কয়েকটি দ্বীপ।

এমনই একটি দ্বীপের নাম পোলাও কেতাম। পোলাও কেতাম অর্থ কাঁকড়া দ্বীপ। এখানে পছন্দ মতো জীবন্ত কাঁকড়া তাৎক্ষনিক ফ্রাই করে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। কাকড়া ছাড়াও দ্বীপটিতে আছে সতেজ সামুদ্রিক খাবার। প্রকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এই দ্বীপটিতে ঘুরে ফ্যাশন বিচিত্রা পাঠকদের ভ্রমনের জন্য তুলে ধরা হলো।

মালয়েশিয়ায় রয়েছে শত শত সুন্দর দ্বীপ। দ্বীপগুলোতে অতি সহজেই ভ্রমণ করা যায়, তবে সব দ্বীপে রাতে অবস্থান করা যায় না। দ্বীপগুলো একে অন্যের চেয়ে আলাদা হলেও সৌন্দর্য্যে পিছিয়ে নেই কেউ কারো চেয়ে। লঙ্কাউই, পেনাং, পোলাও কেতাম, রিডা এবং তিওমান দ্বীপগুলো নিজেদের আলাদা করে নিয়েছে তাদের অনুপম সৌন্দর্য দিয়ে। এর আগে প্রথমবার মালয়েশিয়া আসার পর যাওয়া হয়েছিলো লঙ্কাউই দ্বীপে। এরপর একে একে পুত্রজায়া থেকে শুরু করে অনেক জায়গায়ই বেড়ানো হয়েছে। তবে পোলাও কেতাম যাওয়া হয়নি। তাই ষষ্ঠবার মালয়েশিয়ায় এসে এবার মনস্ত করলাম পোলাও কেতাম যাবো।

মালয়েশিয়ার কোতরয়া স্থানটি একটি বিখ্যাত নাম। চাকরি অথবা ভ্রমণ যে কারণেই মালয়েশিয়ায় যাওয়ায় হয় না কেন কোতরয়া যায়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখানে রয়েছে বাংলা মার্কেট। এই মার্কেটে চাইনিজ ও ইন্ডিয়ান রয়েছে, তবে সংখ্যায় খুবই কম। এছাড়া যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কোতরয়া মিডেল পয়েন্টে। তাই যতবার মালয়েশিয়া গিয়েছি ততোবারই কোতরয়া যেতে হয়েছে।

এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। মারয়েশিয়া এয়ারপোর্ট থেকে বাসে সোজা কোতরয়া। এরপর চিল ইন হোটেলে রাত্রি যাপন। পরের দিন সকালে পাসারসানি বাস ষ্টেশন থেকে ইউ ৭০ নং বাসে চড়ে কেলাং রওয়ানা দিলাম। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষা করছে জামাল ভাই। জামাল আমার একজন শুভাকাঙ্খী ও ভালো বন্ধু। যতবারই মালয়োিশয়ায় গিয়েছি ততবারই তার বাসায় আমাকে যেতে হয়েছে।

পেনাং বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাস পরিবর্তন করে পোর্ট কেলাং। পোট কেলাং থেকে শিপে চেপে বসলাম আমরা। উদ্দেশ্য পোলাও কেতাম যাওয়া। শিপ চলছে রকেট গতিতে। চলছে তো চলছে। একটা সময় চলন্ত শিপটি ঢুকে পড়লো বিশাল এক বনের ভিতরে সরু ক্যানেলে। চমকে উঠলাম। এ যেনো বাংলাদেশের মতো আরেক সুন্দরবন। নাগরিক জীবনের বিষাক্ত বাতাস, কেদাক্ত কর্মময় জীবন থেকে ছুটি নিয়ে সবাই যেন গাঢ় সবুজের মেলায় মেতে উঠেছে।

যে মেলায় শুধু সবুজ খেলা করে। আর সবুজের সঙ্গে খেলা করে হরেক জীবজন্ত, পাখ-পাখালি, কীট-পতঙ্গ আর সাগর থেকে ছুটে আসা জলভেজা বাতাস। যা আমাদের প্রাণে আনন্দের খোরাক যোগায়। তখন শুধুই মনে হলো শত ব্যস্ততা দূরে সরিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার এখনি মোক্ষম সময়।

দ্রুতযান শিপে পয়ত্রিশ মিনিট জার্নি করার পর আমরা পৌঁছে গেলাম পোলাও কেতাম দ্বীপে। সমুদ্রের মাঝে সিড়ি টেনে বিশ পন্টুন রাখা হয়েছে যাত্রী সেবার জন্য। শিপ থেকে নামতেই চোখে পড়ে মৎস্য আহরণের নানা কার্যক্রম। একটু উপরে উঠতেই বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের সামনে রয়েছে বিশাল আকৃতির জীবন্ত কাকড়াসহ হরেক রকম সামুদ্রিক মাছ। চাহিদানুযায়ী রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সাথে সাথে ফ্রাই করে খাওয়াতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পোলাও কেতাম দ্বীপকে বিবেচনা করা হয় মালয়েশিয়ার দ্বীপ গুলোর রানী হিসেবে। দ্বীপটি মৎস শিকারের জন্য বিখ্যাত। কাঁকড়ার আধিক্যের জন্য দ্বীপটি স্থানীয়ভাবে কাঁকড়া দ্বীপনামে পরিচিত। আসলে কেতাম অর্থও কাঁকড়া। সতেজ সামুদ্রিক খাবার প্রেমীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য পোলাও কেতাম। পর্যটকদের জন্য এখানে রয়েছে সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে মৎস আহরণের দৃশ্য অবলোকনের ব্যবস্থা।

দ্বীপটির বর্তমান আধিবাসী ছয় হাজার। বসবাসকারীদের সবাই চাইনিজ। তাদের ঘরের নকশাঁ ও আরাধনার স্থান যে কাউকে মুগ্ধ করবে। দ্বীপটি ওয়াটার ভিলেজ নামেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত। দ্বীপটির ঘর-বাড়ি এমনভাবে তৈরী যা দেখে মনে হয় বাড়িগুলো দ্বীপটির পানিতে ভাসছে। অনেক পর্যটক শুধু বাড়িগুলো দেখতেই দ্বীপটিতে আসেন। দ্বীপটিতে আনন্দের বন্য বয়ে যায় চায়নিজদের চৈনিক-এর চান্দ্র নববর্ষ উৎসবে। বর্ষ পালনে দ্বীপটি ছুটে আসে সবাই।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরতদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চীন দেশের মানুষ। এখানে চীন-এর চান্দ্রমাসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চৈনিক চান্দ্র নববর্ষ উৎসব পালিত হয়ে থাকে। নববর্ষের দিনটিকে পরিবার এবং নিকটাত্নীয়দের সঙ্গে একত্রে নৈশভোজ হচ্ছে এর প্রধান অনুষঙ্গ। পরিবারের ছোট সদস্যরা ঐতিহ্য অনুযায়ী লাল ব্যাগে বড়দের কাছ থেকে টাকা পেয়ে থাকে। সিংহের নৃত্য এর অপর বিনোদন অনুষঙ্গ। এই দিবসটি ঘিরে দ্বীপটি সাজে অপরুপ সাজে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকেই দ্বীপ ছেড়ে মেইন ল্যান্ডে পাড়ি জমাচ্ছে। বিশেষত তরুণরা। দ্বীপটিতে দুইটি গ্রাম আছে। গ্রাম দুটিতে পর্যটকদের জন্য প্রচুর দোকানপাট গড়ে উঠেছে। খাবার দাবারের জন্য আছে আধুনিক রেস্তরা। এটিএম বুথ ব্যবহার করার সুবিধাও রয়েছে।

দ্বীপটিতে কোন ধরনের যানবাহন নেই, শুধুমাত্র কিছু সাইকেল ছাড়া। এগুলো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য। কুয়ালালামপুরের অনেক বাসিন্দা শহরের একঘেয়ামী জীবন থেকে মুক্তির স্বাধ পেতে ছুটে যায় দ্বীপটিতে। দ্বীপে থাকার জন্য ছোট ছোট ঘরের ব্যবস্থা আছে। সস্তা এবং দামী সব ধরনের ঘরের ব্যবস্থাই রয়েছে। রয়েছে ওয়াই-ফাইসহ আধুনিক সব টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা। দ্বীপের ঘরগুলো আগে থেকে বুকিং দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে দূর্ভাগ্যবসত রুম না পেলে ফিরে আসার জন্য রয়েছে জাহাজের ব্যবস্থা তবে তা অবশ্যই বিকেল পাঁচটার মধ্যে।

লাংকাউই

কুয়ালালাম পুরের কোতারয়া বাস টার্মিনাল থেকে পয়ত্রিশ আরএম দিয়ে ট্রান্সন্যাশনাল বাসের টিকেট সংগ্রহ করে রাত এগারোটার বাসে এগারোর-বি নন্বর সিটে বসে রওয়ানা হলাম লাংকাউইর উদ্দেশ্যে।

লাংকাউই শব্দের অর্থ লালচে ধূসর ঈগল। মূলত মালয় অঞ্চলে এই ধরনের ঈগলের আবাস। হেলাং শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ লাং যার অর্থ ঈগল এবং কাউই লালচে ধূসর রংকে বুঝানো হয়েছে। তাই হয়তো আন্দামান সাগরের বুকে উঠা অন্যতম এই দ্বীপের নাম লাংকাউই রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সময় তখন ভোর পাঁচটা বাজতে বিশ মিনিট বাকি আছে। আমাদেও বহনকারি গাড়িটি ফৌছে গেছে পেনাং পোর্ট এলাকায়। অঞ্চলটি ইন্ডিয়ান তামিলদের দখলে থাকলের কোন এক মসজিদ থেকে আযানের বানি কানে ভেসে আসছে। তবে জনমানবের উপস্থিতি অনেকটাই কম। তারপরও এভারেষ্টে উঠার মতো সাহস নিয়ে ভোর হওয়ায়রন অপেক্ষায় প্রহর গুনতে লাগলাম। এক সময় সূর্য মামা উকি দিলো পুব আকাশে।

পায়ে হেটে চলে গেলাম পেনাং পোর্ট এলাকায়। সেখান থেকে তেষট্রি আরএম দিয়ে সুপার ফাস্ট ফেরি নামক সীপের টিকেট কিনে এবার ডিপারর্চার হওয়ার অপেক্ষা। অবশেষে সকাল আটটায় আমাদের চবহনকারি সীপ ছুটলো লাংকাউইর উদ্দেশ্যে।

মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে আন্দামান সাগরের বুকে ১০৪ টি দ্বীপের মধ্যে লাংকাউই দ্বীপটি সব চেয়ে বড়। এই স্থানের রয়েছে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সমূদ্র সৈকত। কেদাহ্ নামের এই প্রদেশটি থাইল্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত। এখানে রয়েছে ৬৪,৭৯২ জনের একটি আবাসস্থল। এই দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে অপর যে দ্বীপে মানুষের বসতি রয়েছে তার নাম পালাউ তুবা। লাংকাউই একটি শুল্ক মুক্ত শহর।

লাংকাউই একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবেও স্বীকৃত। স্থানীয়দের কাছে এক সময় ভীতির অপর নাম ছিল লাংকাউই। এই অঞ্চলকে অভিশপ্ত এলাকা হিসেবে আশপাশের লোকেদের কাছে প্রচলিত ছিল। ১৯৮৬ সালে আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি মাহাথির মুহাম্মাদ এই স্থানটিকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান দ্বীপটিতে রিসোর্ট, হোটেল, স্পা সহ নানা ধরনের বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে। এখন দ্বীপটি হয়ে ওঠে পর্যটকদের কাছে প্রমোদ ভ্রমণের কেন্দ্রবিন্দু।



লংকাউই আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড

প্রায় ৬ একর জমির ওপরে গড়ে ওঠা লংকাউই আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড পর্যটকদের কাছে সবথেকে আকর্ষনের স্থান। দ্বীপটির একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে এর অবস্থান। এটি মালয়েশিয়ার বৃহত্তম এ্যাকুরিয়াম হিসেবে চিহ্নিত। সাগরের প্রায় ২০০ প্রজাতির প্রানী এখানে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাদু পানির মাছ, সৈকতের সীল, রকহপার পেঙ্গুইন, হাঙ্গর, বড় রে ফিস, কচ্ছপ এবং এ্যামাজনের এ্যারাপাইমা যা পৃথিবীর স্বাদু পানির সবথেকে বৃহৎ আকৃতির মাছ।

পুরো কমপ্লেক্সটি ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট, টেম্পারেট এবং সাব-এ্যান্টার্কটিক এই তিনটি অংশে বিভক্ত। সাব-এন্টার্কটিক সবথেকে বেশি দর্শনার্থী ভিড় জমান। এর পেঙ্গুইন এ্যারিয়াম-এ ছোট ব্ল্যাকহপার এবং কালো পায়ের পেঙ্গুইন দেখার জন্যই এই ভিড়। এছাড়াও এডুকেশনাল রিসোর্স সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া এবং ত্রিমাত্রিক সিনেমা হল সকলের বিনোদন এবং অনুসন্ধিৎসু মনের অনেক উত্তর নিয়ে অপেক্ষা করছে সকলের জন্য। সবার পরে প্রায় ৬০ লক্ষ লিটারের এক দানবাকৃতির এ্যাকুরিয়াম টানেল সবাইকে চিরদিনের জন্যে এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেবার জন্য সদা প্রস্তত। অসংখ্য মাছের মধ্যে হাঙ্গর, দানবাকৃতির স্টিং রে এবং সবুজ কচ্ছপ এত কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা কেউই ছাড়তে চাইবে না।

তেলেগা হারবর পার্ক

লাংকাউই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যে পথটি এগিয়েছে তার পশ্চিম প্রান্তে মিলবে তেলেগা হারবর পার্ক। প্রায় ২৭ একর সমূদ্র তটরেখায় রয়েছে সাতারের সঙ্গে সঙ্গে সাগর তলের সৌন্দর্য উপভোগের বিশেষ সুবিধা। এখানে উল্লেখযোগ্য স্থান হলো পেরদানা কুয়াই। খানিকটা পায়ে হেটে মেরিনা রেস্টুরেন্টে পৌছলেই মিলবে রাতভর বিনোদন। এখানকার রেস্টুরেন্ট এবং পাব রাতে হয়ে ওঠে জনাকীর্ণ। চাইলে আপনিও হতে পারে তাদের একজন।

এক সময়ের ছোট জেলে পল্লী তেলেগা হারবর পার্ক বর্তমানে পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। জেলে পল্লী এখন পরিণত হয়েছে প্রমদ তরীর গ্রামে। ছোট থেকে বিলাসবহুল বৃহদাকার প্রমদ তরী আগতদের সেবায় নিয়োজিত। ছোট শহরে পরিণত হওয়া এই স্থানটি পুরো অঞ্চলের একমাত্র নৌ ভ্রমনের জন্য ছোট নৌবন্দর হিসেবে বিবেচিত।

ওরিয়েন্টাল ভিলেজ

স্থানটি স্কাই ব্রিজ বা কেবল কারের জন্য বিশেষ ভাবে সমাদ্রিত। এর বিশালাকায় উন্মুক্ত কমপ্লেক্সটি সবার কাছে বিশেষ ভাবে আকর্ষনের স্থান। এখানে রয়েছে বিশালাকায় লেক। এছাড়া আর্ট গ্যালারি, বিভিন্ন পশু প্রদর্শনের ব্যবস্থা, স্থানীয় পোশাক এবং হস্ত শিল্পের দোকান কেনাকাটা ও বিনোদনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ করে দিয়েছে। স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহি খাবার আগত অতিথিদের রসনা বিলাসের জন্য আদর্শ স্থান।

লাংকাউই-এর পশ্চিম দিকে পানতাই কক-এ এর অবস্থান। স্থানটি সাধারণত সব সময় দর্শনার্থীদের দ্বার পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে কেবল কার বা টিকেট কাউন্টারের সামনে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ দর্শণীয় স্থানে সকাল এবং বিকেলে দীর্ঘ লাইন একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

লাংকাউই কেবল কার

লাংকাউই-এর এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সকলেই ভিড় করেন দ্বীপটির ওরিয়েন্টাল ভিলেজে অবস্থিত কেবল কারে চড়ার জন্য। দ্বীপটির দ্বিতীয় উচ্চতম চূড়া মাউন্ট ম্যাট চিনচ্যাং পর্যন্ত ক্যাবল কারের পথ বিস্তৃত। যানটিতে চড়ার অল্প সময়ের ভেতরেই তাপমাত্রা কমতে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। একই সাথে সাগর থেকে আগত মনোরম বাতাস আগত সকলকে দেয় প্রশান্তির ছোয়া।

প্রায় ৬০০ মিটার যাত্রার পরে কেবল কার তার প্রথম স্টেশনে পৌছে। এখান থেকে চাইলে নেমে যাওয়া যায় অথবা পরবর্তী যান ধরে চূড়ায় পৌছনো সম্ভব। আবার অনেকেই এর অবজারভেশন ডেক-এ চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেন। তবে চূড়া থেকে আরো সুন্দর পরিবেশ দেখতে পাওয়া যায় বিধায় এখানে কেউ তেমন একটা সময় ব্যয় করেন না। সাবলিল গতিতে চলা এই যানটির অভ্যন্তর থেকে পাহাড়, সাগর এবং রেইন ফরেস্ট খুব সুন্দর ভাবে উপভোগ করা যায়।

বাতু গুহা

মালয়েশিয়া বেড়াতে গেলে অবশ্যই যাবেন বাতু গুহা। এটি অসন্ভব সুন্দর একটি গুহা। যা মালয়েশিয়ানদের কাছে বাতু ক্যাবস নামে পরিচিত। গুহাটি হিন্দু এক আদি দেবতার বাসস্থান হিসেবে খ্যাত। তাই গুহিার সামেনে বিশাল আকৃতির দেবতার মুরল রয়েছে । স্থানীয়রা বিশাল এই মুরালটি স্বর্ন দিয়ে তৈরি জানলেও এটি আসলে মার্বেল পাথরের । এই প্রাকৃতিক উপহারটি কুয়ালালামপুর শহরের পাশে হলেও এটি সেলাংগর প্রদেশের আওতায় পড়েছে।

এখানে তিনটি বড় গুহা রয়েছে এবং এর প্রধান গুহাটি হিন্দু এক আদি দেবতার বাসস্থান হিসেবে খ্যাত। বাৎসরিক থাইপুসাম উৎসবের সময় এখানে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত থেকে আগত লোকের সমাগমে মুখরিত হয়ে থাকে। গুহা মুখে প্রবেশের জন্য ২৭২ ধাপের সিড়ি পার হতে হয়। এছাড়াও হিন্দু মহাকাব্যে বর্ণিত বিভিন্ন গুহাচিত্র পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু। মালয়েশিয়ার কোতরয়া থেকে ইউ ৬ বাসে আপনি সরাসরি যেতে পারবেন বাতু গুহায়।

যেভাবে যাবেন

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে বাসে কেলাং বাস ষ্টেশন অথবা মাই ডিন মার্কেটের সামনে নামতে হবে। ভাড়া মাত্র সাড়ে তিন আর এম। এরপর বাসে করে পোর্ট কেলাং। ভাড়া এক আর এএম। পোর্ট কেলাং নেমে শিপে বা ফেরিতে করে সরাসরি পোলাও কেতাম যাওয়া যায়। শিপে যেতে সময় লাগে মাত্র পঁয়ত্রিশ মিনিট। দ্বীপটিতে যাওয়ার কোন বিশেষ সময় নেই। সারা বছর যাতায়াত করা যায়। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন অসম্ভব সুন্দর দ্বীপ পোলাও কেতামে।