ব্লুটুথ স্পিকার, হেডফোন এবং ওয়াইফাই রাউটার কি

ধীরে ধীরে ইতিহাসে চলে যাচ্ছে ৩.৫ মিলিমিটার জ্যাক। অন্তত মোবাইলের ক্ষেত্রে সে রকমই হতে চলেছে। প্রায় একশো বছর শব্দ আদানপ্রদানের এই জ্যাক প্রথম থেকেই মোবাইলে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু, সে দিন ফুরোচ্ছে।

বাসে-ট্রামে, পথে-ঘাটে কান থেকে ঝুলন্ত তারের দৃশ্য ভবিষ্যতে দুর্লভ হয়ে উঠবে। তারের বদলে শব্দের আদানপ্রদানের মাধ্যম হয়ে উঠছে ব্লুটুথ। আর এর মধ্যেই বাজার ভরে উঠেছে ব্লুটুথ হেডসেট-এ। আমরা কয়েকটি সংস্থার ব্লুটুথ হেডসেট নিয়ে কথা বলব। কথা বলব সেই সব হেডসেট নিয়ে যা শুধু ফোনে কথা বলাই নয়, সব ধরনের মাধ্যমের শব্দ শোনা যাবে।

শব্দের জগতে সোনির বরাবর সুনাম। সেই সুনামের ভাগী হতে নিতে পারেন সোনির ব্লুটুথ সেটটি। মাত্র ২১ গ্রাম ওজনের এই সেটটি মাথার পিছন দিয়ে কানে আটকে যাবে। এক বার চার্জ দিয়ে ব্যবহার না করলেও ২৫০ ঘণ্টা চার্জ ধরে রাখবে। প্রায় আট ঘণ্টা কথা বলা যাবে। ঘামে এই সেটটি নষ্ট হবে না বলেও সোনির দাবি। এটি জল নিরোধকও। সেটটির দাম প্রায় ছ’হাজার টাকা। এটি ছাড়াও সোনির বেশ কয়েকটি ব্লুটুথ হেডসেট রয়েছে।

জেবিএল শুধু শব্দ নিয়েই কাজ করে। তাদের নানা ব্লুটুথ হেডসেট রয়েছে। ব্যবহার করে দেখতে পারেন এভারেস্ট ১০০ বিটি সেটটি । এটিও সোনির সেটটির মতো ঘাড়ের পিছন থেকে কানে লাগাতে হবে। ওজন সোনির সেটটি থেকে কম, ১৬ গ্রাম। দাম পড়বে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

প্রায়ই একই রকম ব্লুটুথ সেট রয়েছে স্যামসাং-এরও। যেমন, ইও- বিজি৯২০বিবিইজিআইএন সেটটি। ঘাড়ে পরে নিন। এই সেটে রয়েছে দু’টি মাইক এবং ১২ মিলিমিটার ডাইনামিক স্পিকার। ফলে শব্দ জোরে এবং স্পষ্ট শোনা যাবে। এই সেটটি মিলবে দু’হাজার টাকার সামান্য বেশিতে।


ওয়াইফাই রাউটার

নেট ছাড়া মুহূর্ত নাই। সেই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ওয়াই-ফাই রাউটারের। রিলায়েন্সের ফোর-জি পরিষেবা ‘জিও’ আসার পর নেট প্যাকের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মোবাইল ডেটার দাম কিন্তু ব্রডব্যান্ডের তুলনায় বেশি। বাড়িতে ব্রডব্যান্ড ব্যবহার তাই পকেটের পক্ষে স্বাস্থ্যকর। নানা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার থেকে এই ব্রডব্যান্ডে মেলে। কিন্তু বাড়িতে একাধিক মোবাইল, ট্যাব, ডেক্সটপ, ল্যাপটপ থাকলে কী করবেন? এখানেই প্রয়োজন ওয়াই-ফাই রাউটারের।

ব্রডব্যান্ডের লাইনটি রাউটার জুড়ে দিন। তার পরে নিশ্চিতে একাধিক যন্ত্রে নেট করতে থাকুন। না থাকলে এই পুজোর সময়ে বাড়িতে একটি রাউটার নিয়ে এলে মন্দ হয় না।

তবে রাইটার কেনার আগে চট করে তিনটি জিনিস দেখে নেবেন। প্রথমে দেখে নেবেন কত দূর পর্যন্ত রাউটারের সিগন্যাল পাওয়া যাবে। এটা সাধারণত রাউটারে ক’টি অ্যান্টেনা রয়েছে, কতগুলি রেডিও রয়েছে, ক’টি কম্পাঙ্কে তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে তার উপরে। তার পরে দেখে নিন ক’টি ব্যান্ড সিগন্যাল পাঠায় রাউটারটি। যত বেশি ব্যান্ড তত ক্ষমতাশালী রাউটার। এ বার কয়েকটি রাউটারে সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব। এ রাউটারগুলির মোডেম নেই।

রাউটারের জগতে ডি-লিঙ্কের বরাবর নাম রয়েছে। যেমন, ডিআইআর-৮১৬ এসি৭৫০ ডুয়েল ব্যান্ড রাউটারটি । তিনটি অ্যান্টেনার এই রাউটারটি ২.৫ গিগাহার্জ ও পাঁচ গিগাহার্জে কাজ করে। এই রাউটার তথ্য আদানপ্রদানের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৭৫০ মেগাবাইট। এর চারটি ল্যান ও একটি ওয়ান পোর্ট রয়েছে। ক্রোম, সাফারি, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার-সহ জাভা কাজ করতে পারে এমন ব্রাইজারে এখানে কাজ করা যাবে। দাম দু’হাজার টাকার মতো।

রাউটারের জগতে নেটগিয়ার সংস্থাটিও পিছিয়ে নেই। দেখতে পারেন আর ৬২২০ ওসি১২০০ ডুয়েল ব্যান্ড গিগাবিট রাউটারটি। এটিও ২.৫ গিগাহার্জ ও পাঁচ গিগাহার্জে— এই দুই ব্যান্ডে কাজ করবে। এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১২০০ মেগাবাইট। তবে অ্যান্টেনার সংখ্যা দুই। চারটি ল্যান, একটি ওয়ান, একটি ইউএসবি পোর্ট রয়েছে। এতে দু’বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। এর দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।

কম্পিউটার ও মোবাইলের জগতে আসুস-এর নাম আছে। এদের এসি৫১ইউ ডুয়েল ব্যান্ড এসি৭৫০। দু’টি ব্যান্ডের এই রাউটারে তথ্য আদান-প্রদানের গতি হবে ৭৩৩ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে। এর ইউএসবি পোর্ট দিয়ে প্রিন্টার, অন্য স্টোরেজও জুড়ে সংযোগ করা যাবে। এই রাউটার লাগালে এআই ক্লাউডে সংযোগ পাওয়া যাবে। ফলে বেশ কিছু তথ্য সেখানে সিঙ্ক করে রাখা যায়। এর দাম প্রায় তিন হাজার টাকা।

ব্লুটুথ স্পিকার

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক কিশোরী। ইয়ারফোন কানে গুঁজে গান শোনায় মগ্ন।হাঁটার ফাঁকেই হাল্কা দুলুনি, বোঝা যায় গানের সঙ্গে তাল দিচ্ছে।রাস্তার গাড়িঘোড়া বা ভিড়ের দিকে যে খুব বেশি মনোযোগ আছে, তাও নয়। এমন ভাবেই গান শুনতে শুনতে বাস-ট্রাম-ট্রেন-ওলা-উবের পেরিয়ে এগিয়ে যায়এই জেনারেশন। পিছিয়ে নেই আগের প্রজন্মও।

এমন ভাবে গান শোনাটা নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারে।গান শুনতে গিয়েঅন্যমনস্ক হয়ে পড়া এবংতার জেরেদুর্ঘটনা ঘটেছে এমন বহু ঘটনাআমাদের জানা। কিন্তু, সচেতন নয় অনেকেই। এ তো গেল একা একা গান শোনার একটা দিক। কিন্তু, নিজে শোনার পাশাপাশি এই পুজোয় গানের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাইলে কী করবেন? গান তো এখন মোবাইল বন্দি। তা ছাড়া ইউটিউবের সুযোগ মোবাইল, ট্যাব বা কম্পিউটার ছাড়া পাওয়া সম্ভব নয়।

কিন্তু যতই নামজাদা সংস্থার মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ হোক না কেন আওয়াজে মন ভরা মুশকিল। দরকার স্পিকার। কিন্তু, সে মানে তো আবার তারের ঝামেলা! না, উপায় আছে। ব্লুটুথ স্পিকার। অধুনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই স্পিকার। স্পিকার নির্মাতা সংস্থাগুলিও ডালি সাজিয়ে নিয়ে এসেছে। নানা দামে নানা স্পিকার। ব্লুটুথের সীমার মধ্যে যেখানে খুশি বসিয়ে শুনতে থাকুন, দেখবেন দ্বিগুন হয়ে উঠবে পুজোর আনন্দ। সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকা কয়েকটি সংস্থার ব্লুটুথ স্পিকারের খোঁজ দিচ্ছি।

যেমন ধরুন ফিলিপ্‌স। ফিলিপ্‌স-এর স্পিকারের খ্যাতি রয়েছে। ফিলিপ্‌স-এর নানা ধরনের ব্লুটুথ স্পিকার রয়েছে। আপনি বিটি৫০বি মডেলটি দেখতে পারেন। ফানেলের মতো দেখতে দু’ওয়াটের এক চ্যানেলের স্পিকার। ১০ মিটার পর্যন্ত ব্লুটুথের সীমা।ভিতরে ব্যাটারি রয়েছে। এক বার চার্জ দিয়ে ছ’ঘণ্টা গান শোনা যাবে বলে ফিলিপ্‌স-এর দাবি। ইউএসবি পোর্টেও কেবল দিয়ে জুড়তে পারেন। ফ্লিপকার্টে এই স্পিকারটি হাজার টাকার সামান্য বেশিতে পাওয়া যাচ্ছে।

স্পিকারের জগতে জেবিএল-এর ভালই নাম রয়েছে। জেবিএল-এর ‘গো’ মডেলটি দেখতে পারেন। একটি চ্যানেলের চৌকো এই স্পিকারটি তিন ওয়াটের। এটি ইউএসবি পোর্টেও জোড়া যাবে। জেবিএল-এর দাবি,এক বার ব্যাটারিতে চার্জ দিলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা শোনা যাবে। ৩.৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাক যুক্ত করার জায়গাও আছে। এই স্পিকারটির দাম দু’হাজার টাকার কিছু বেশি।

প্রায় কাছাকাছি দামের জিওমি-র ব্লুটুথ স্পিকারও দেখতে পারেন। ছোট্ট একটি বক্সে স্পিকার রয়েছে দু’টি। অ্যামপ্লিফায়ারের কাজের জন্য এই স্পিকারে ‘অ্যাভনেরা৩১০২’ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে।এক বার চার্জ দিলে প্রায় আট ঘণ্টা চলবে। ব্যাটারির চার্জ কমে গেলেও সর্বোচ্চ ভলিউমেবাজানো যাবে। জিওমি-র দাবি,এই অবস্থায়ও শব্দ পরিষ্কার শোনা যাবে। বিভিন্ন রঙে জিওমি এই স্পিকার বার করেছে। দাম পড়ছে প্রায় আড়াই হাজার টাকার মতো।

স্পিকারের জগতে বোস-এর আলাদা মাহাত্ম্য। বোস-এরও ব্লুটুথ স্পিকার রয়েছে। যেমন সাউন্ডলিঙ্ক। চার্জ দিলে চলবে প্রায় আট ঘণ্টা। প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত ব্লুটুথের সীমা। তবে এটি পেতে গেলে আপনাকে প্রায় ১০ হাজার টাকা গুনতে হবে।