দুর্গা পূজার কেনাকাটা

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। সামনেই মহালয়া। ঢাকে কাঠি পড়ল বলে। কিন্তু গরম তো পিছু ছাড়ছে না। মশারির ভিতরে প্রাণ হাঁসফাঁস করে। ঘেমেনেয়ে ঘুম ভাঙলে সাত-সকালের সংবাদপত্র জুড়ে এসি-র বিজ্ঞাপন। একের পর এক নামী ব্র্যান্ড। শীতলতার লোভনীয় হাতছানি। হাতে কিছু রেস্তও আছে। কিন্তু কোন এসি-টা কিনবেন তা গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। প্রথমেই মাথায় কয়েকটি প্রশ্ন ঘোরে।

১)কত তাড়াতাড়ি ঘর ঠাণ্ডা হবে?
২)বিদ্যুৎ খরচ কেমন হবে?
৩)সমস্যা হলে সারানোর লোক কত দ্রুত পাওয়া যাবে?

প্রশ্নগুলি প্রাসঙ্গিক। তাই তলার টিপসগুলিও জরুরি:

১)ঘরের মাপ অনুযায়ী এসি-র ক্ষমতা স্থির করুন।১২০-১৪০ বর্গফুটের জন্য এক টন, ১৫০-১৮০ বর্গফুটের জন্য দেড় টন, ১৮০–২৪০ বর্গফুটের জন্য মোটামুটি দু’টনের এসি লাগবে। তা ছাড়া আপনার ঘরের অবস্থানের উপরেও এসি-র কার্যকারিতা নির্ভর করে। এসি লাগানো ঘরটি যদি রান্নাঘরের পাশে হয়, সূর্যের আলো যদি সরাসরি ঘরে আসে আর উপরেই ছাদ হয়, তা হলে ঘর দ্রুত গরম হবে। এ ক্ষেত্রে তাই এসি-র ক্ষমতা একটু বেশি নিতে হবে।

২) বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্ভর করে এসি-র স্টার রেটিং-এর উপরে। স্টার যত বেশি, তত বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়। দেখা গিয়েছে, দিনে গড়ে ৮-১০ ঘণ্টা, বছরের তিন-চার মাস নিয়মিত এসি চলে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যূনতম তিনটি স্টার দেওয়া এসি কেনা উচিত। কিন্তু প্রযুক্তি সেখানেও থেমে নেই। এসেছে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি। এতে আরও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। কয়েকটি সংস্থা আবার ইনভার্টার এসি-রও স্টার রেটিং নিয়ে এসেছে।

৩) সাধারণত দু’ধরনের এসি হয়। একটি উইন্ডো এসি। এই এসি-র একটিই ইউনিট থাকে। দেওয়াল কেটে এসি বসাতে হয়। অন্যটি স্‌প্লিট। দু’টি আলাদা ইউনিট। ঘরের ভিতরের ইউনিটের সঙ্গে বাইরের ইউনিটকে যুক্ত করতে দেওয়ালে একটি মাত্র ছোট গর্ত করতে হয়। হ্যাপা কম।

৪)এসি-র এয়ার ফিল্টার এর উপরে ঘরের বাতাসের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। তাই এয়ার ফিল্টারের গুণগত মান যাচাই করে এসি কিনুন।

৫)উইন্ডো এসি-র হাওয়া একমুখী।স্‌প্লিট সারা ঘরে হাওয়া ছড়ায়। তাই ঘরের কোথায় এসি বসাবেন তা আগে থেকে স্থির করতে হবে।

৬)এসি-র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দরকার।তাই কোন সংস্থা তুলনামূলক ভাবে এই পরিষেবা ভাল দেয় সেটাও মাথায় রাখুন।

৭) এসি-তে শব্দ হবেই। এসি-র শব্দের মাত্রাটা জেনে কিনুন।

টিপসগুলি পড়ে সোজা এসি-র বাজারে চলে যেতে পারেন। বাজার কিন্তু সরগরম। ইনভার্টার এসি-র বিক্রি বেশি। আর উইন্ডো এসি প্রায় বিলুপ্তির পথে । এটাই ট্রেন্ড। পুজো ও শীতের সময় এসি কেনা ভাল। এই সময়ে বেশি ছাড় মেলে। কিন্তু কোন ব্র্যান্ডের এসি নেবেন? প্রায় সব ক’টি ব্র্যান্ডের এসি-রই সাধ্যের মধ্যে বেশ দামি মডেল রয়েছে। এমনকী, ২২ হাজার টাকায়ও এসি পাবেন।

ওয়াশিং মেশিন

ওয়াশিং মেশিন প্রধানত দুই ধরনের। একধরনের মেশিনে কাচা এক জায়গায় হয়। সময় সেট করে দিতে হয়। কাচার পরে আর একটা ড্রামে শুকোতে দিতে হয়। এটি সেমি অটোমেটিক মেশিন। অন্য মেশিনে কাপড় আর ডিটারজেন্ট দিয়ে টাইম সেট করে দিলে কাপড় কেচে অনেকটা শুকিয়ে বেড়িয়ে আসবে। এই মেশিন আবার দু’ধরনের— টপ লোডিং এবং ফ্রন্ট লোডিং। সম্প্রতি বেশ কিছু সংস্থা কাচার ড্রামটিকে বড় সাইজের করেছে। আর ভিতরের স্পিন বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১০০০–১৬০০ করেছে। এর ফলে কাপড় কাচার ক্ষেত্রে সময় অনেক বাঁচছে। জল কম লাগছে।

উৎসবের এই মরসুম হল ওয়াশিং মেশিন কেনার সঠিক সময়। এক দিকে প্রচুর ছাড়। অন্য দিকে, উৎসবের মরসুমে অনেক নতুন মডেল বাজারে আসে।

বাজারে এখন সবচেয়ে চাহিদা বেশি টপ লোডিং ফুট অটো ওয়াশিং মেশিনের। এর পরে ফ্রন্ট লোডিং ফুল অটো মেশিনের। দাম শুরু ১৩৫০০ টাকা (৬ কেজি) থেকে।তবে ফ্রন্ট লোডিং এর ক্ষেত্রে একটু বেশি দামের দিকে যেতে হবে।বাজেট মোটামুটি ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করতে হবে (৯ কেজির জন্য)। ৬ কেজির জন্য নিলে দাম শুরু হবে ২৫ হাজার টাকা থেকে। যারা সেমি অটো মেশিন নিতে চান, তারা মোটামুটি সাড়ে ছয় কেজির জন্য সাড়ে ১১ হাজার নিয়ে যেতে পারেন।এ ক্ষেত্রে চালু ব্র্যান্ডগুলি হল সামসাং, এল জি, ওয়ার্লপুল, ভিডিওকন, হায়ার, আই এফ বি, প্যানাসনিক, গোদরেজ।