থ্রি অন আ বেড

কলকাতা বাংলা সিনেমায় থ্রি অন আ বেড যুগান্তকারি এক প্রয়াস। কি গল্পে, আর কি চিত্রায়নে। ছবিটি প্রযোজনা করেছে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট। রাজদীপ পাল এবং শর্মিষ্ঠা মাইতির দুর্দান্ত সাহসী ছবি থ্রি অন বেড। এক নারী ও দুই পুরুষের একত্রে বাস করার কাহিনী নিয়ে নির্মিত এই ছবি। তিন জনের সহবাস আর যাপনকে সমাজ কি চোখে দেখে তার মোটামুটি একটা সফল চিত্রায়ন। গল্পের প্রয়োজনেই প্রচুর খোলামেলা আর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ফুলঝুড়ি ঘটে ছবিতে।

দর্শকশ্রেণির চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে মেইনস্ট্রিম আর আর্টফর্মের মিশেলে সেখানে তৈরি হয়েছে মিডল রোড বা মধ্যপন্থার এক নিজস্ব ধারার সিনেমা। সিনেমার গল্পের ধরণও পাল্টে গেছে আমূল, নাগরিক জীবনের নানা প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, প্রেম বিরহ আর অবদমনের গল্পগুলো হয় সিনেমার বিষয়। যৌনতাকে শৈল্পিকভাবে কিভাবে উপস্থাপন করা যায়, এবং তা মেইনস্ট্রিম আর আর্টফর্মের সমন্বয়ের ভিতর দিয়ে চর্চা করা যায় তা ভীষণরকমভাবে পর্দায় তুলে ধরে দেখিয়েছেন রাজদীপ পাল এবং শর্মিষ্ঠা মাইতি।



ফলে আর্টফর্মের সিনেমার উপর এতোদিন যে অপবাদ ছিলো যে, এগুলো মানুষ দেখে না, থিয়েটারে মুখ থুবরে পড়ে সিনেমাগুলো; সেই অপবাদ ঘুচিয়েছে মিডলরোড বা মধ্যপন্থার সিনেমাগুলোর উদ্ভাবনের ফলে। তবে পশ্চিম বাংলার সিনেমা বিজ্ঞজনরা সিনেমার এই নব ধারাকে ‘মিডলরোড’ বা ‘মধ্যপন্থা’ যে নামেই অবিহিত করুক না কেনো, সেসব ছবিগুলোর বিরাট অংশজুড়ে থাকে যৌনতার ছড়াছড়ি।

এটা ইনটেনশনালি করা হয়। দর্শক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই একটা ভালো গল্পের মধ্যেও আচমকা ঢুকে পড়ে যৌন সুড়সুড়ি। এটাকে বলা যায় কলকাতা বাংলা সিনেমায় এক ধরণের কৌশল; আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পেতেই এমনটি করা হয়। নাগরিক জীবনের গল্প বলার প্রেক্ষিতে ছবিগুলোতে সমকামিতা, পরকিয়া আর অবৈধ সম্পর্কগুলোর খুব রগরগে দৃশ্যায়ন থাকে মধ্যপন্থি প্রায় ছবিগুলোতেই।

কলকাতার নির্মাতা থেকে অভিনয় শিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন যথার্থ পরিবর্তিত। হর হামেশায় কোনো সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করতে তারা রাজি হয়ে যাচ্ছেন। কলকাতার মেইনস্ট্রিম সিনেমাতেও এতো সাহসী ভূমিকায় কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রীদের দেখা যায় না।