তিন কন্যা

স্বামী পরকীয়ায় মত্ত জেনে, একটি মেয়ে প্রথম কী করে? হাত তুলে অনেকেই বলবেন সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে মেয়ে। কিন্তু সম্পর্কের জটিল মারপ্যাঁচে আদ্যন্ত একটা গল্প হয়ে দাঁড়ায় সে মেয়ের অস্তিত্ব রক্ষা আর প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প। এই নিয়েই তিন কন্যা। এ ছবির তিন কন্যে অর্থাৎ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, অনন্যা চট্টোপাধ্যায় এবং ২০১০ র মিস ইন্ডিয়া ইস্ট উন্নতি দাবরা। পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। চারুলতা ছবির পর এমনিতেই সম্পর্ক জটিলতার রসায়ন নিয়ে বিতর্কিত ছবি তৈরির ক্ষেত্রে শিরোনামে তিনি।

এবার সেই পরিচালকের হাত ধরেই আবার ফের জটিল সম্পর্কের সাইকোলজি নিয়ে ছবি তিন কন্যা। অবশ্য এ হল আদ্যন্ত সাসপেন্স থ্রিলার। এ ছবি দেখাল আদতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির উপস্থিতি, সমকামিতা ও পাশাপাশি থ্রিলার-খুন-সাসপেন্স নিয়েও বটে। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে তিন নারীর গল্প এটা। একজন একটা বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেন, একজন পুলিশের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা, আর আরেকজন জীবনটাকে শুধুই উপভোগ করেন।

গল্পের শুরুটা প্রথম জনকে দিয়ে। স্বামীর গতিবিধির ওপর প্রবল সন্দেহ। তার কেন যেন সবসময় মনে হয় যে স্বামী অন্য কারও সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। এই অন্য কেউ হচ্ছেন গল্পের একটা টুইস্ট।

২য় জন এক কুখ্যাত সমাজবিরোধীকে গ্রেফতার করে চারদিকের চাপে রীতিমত জেরবার। কিন্তু মাথা নোয়াবেন না কিছুতেই। এদিকে একটা ধর্ষণ কেস নিয়েও কিঞ্চিৎ প্রেসারে আছেন।

৩য় জন একটা ডিস্কোতে বন্ধুর জন্মদিন পালন করা শেষে এক মন্ত্রীর বিপথগামী ছেলে ও তার ২ বন্ধুর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন। পুলিশের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু অভিযোগ নেয়া হয়নি।

এ ছবি মূলত অপর্ণার গল্প নিয়ে- সে বুঝতে পারে তার স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত। সেই নারী তার চেয়ে কত সুন্দর তা নিয়ে অপর্ণার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। এর মধ্যে স্বামীকে অপহরণ করে গুন্ডারা। উদ্ধার করতে গিয়ে অপর্নার আলাপ হয় যে মেয়ের সঙ্গে, সে আদতে পুলিশ অফিসার। কামনার আসক্তিতে অপর্না স্বামীর সেই প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আসলে কে অপর্ণার স্বামীর অপহরণকারী এবং খুনি, তা দেখতে হলে যেতে হবে।

এই তিনজনের জীবনের গল্পের টুইস্টেড কিছু টার্নিং নিয়েই এই মুভি। কুখ্যাত সেই সমাজবিরোধীর মৃত্যু, ১ম জনের সন্দেহের অবসান, ধর্ষিতার অমোঘ বিচার পেয়ে যাওয়া আর নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ অফিসারের সব কিছু থেকে মুক্তি পাওয়া - দেখবেন, একই সূত্রে গাঁথা।

পাশাপাশি চারুলতা ২০১২ র পর ফের আর এক বিতর্কিত সাহসী চরিত্রে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

জটিল জীবনের কথায় আবার দৈনন্দিন মোটিফ দিয়ে গানের ছবি এঁকেছেন শ্রীজাত। এ ধরনের কেমিস্ট্রি আর সাসপেন্স আমরা বাংলা ছবিতে প্রায়ই দেখতে পাই না। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে গানগুলি গেয়েছেন রূপঙ্কর-অনুপম রায়।

জটিল মন কীভাবে খুঁজে নেয় প্রেমের মানুষ আর পাশাপাশি প্রতিহিংসার ছোবল অপরাধকে উসকে দেয় কীভাবে সেই গল্প নিয়েই এই ছবি। দেখতে পারেন। সময়টা ভালই কাটবে আশা করি।