কলকাতার কালী মন্দির ও কালী পুজো পরিক্রমা

কালীপুজোর ইতিহাস বহু প্রাচীন। তবে আজকের মতো অতীতে দেবী কালী ঘরে ঘরে পূজিত হতেন না। তাঁর পুজো হতো শ্মশানে, তেমাথায় কিংবা মন্দিরে। তাও আবার যন্ত্রে কিংবা ঘটে-পটে। শোনা যায়, ষোড়শ শতকে নবদ্বীপের প্রসিদ্ধ তন্ত্রসাধক কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ প্রথম কালীমূর্তি গড়ে পুজোর প্রচলণ করেছিলেন। তার পরবর্তী কালে নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমলে কার্তিকী অমাবস্যায় কালীপুজোর ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। পরবর্তী কালে রামপ্রসাদ সেন, শ্রীরামকৃষ্ণ, বামাখ্যাপা কিংবা কমলাকান্তের ভক্তিরসের প্রভাবেই শ্মশানবাসিনী কালীর প্রবেশ ঘটেছিল বাঙালির ঘরে।

বড়িশা সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের নন্দদুলাল রায়চৌধুরী তাঁর অকালপ্রয়াতা মেয়ে করুণা-র স্মৃতিতে ১৭৬০ সালে পশ্চিম পুঁটিয়ারি অঞ্চলে দ্বাদশ শিবমন্দির-সহ একটি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মেয়ের নামেই বিগ্রহের নামকরণ করা হয় করুণাময়ী। একটি কষ্টিপাথর কেটে বিগ্রহটি তৈরি করা হয়েছিল, তাই দেবীর পদতলের শিব মূর্তিটিও কষ্টিপাথরের। দেবীর বিগ্রহ পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপর প্রতিষ্ঠিত। কালীপুজোর সময় দেবীকে বিশেষ ভাবে সাজানো হয়। পুজো হয় ষোড়শোপচারে। হয় কুমারী পুজোও। কালীপুজোর বিশেষ ভোগে থাকে খিচুড়ি, সাদা ভাত, মোচার ঘন্ট, এঁচোড়ের ডালনা, লুচি ছোলার ডাল, পোলাও, নানা রকমের তরকারি, দশ রকমের মাছ, চাটনি, পায়েস।

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরটির অবস্থান বেহালা ট্রাম ডিপোর পাশে। শোনা যায়, ১১৭০ বঙ্গাব্দের ১২ জ্যৈষ্ঠ ফলহারিণী কালীপুজোর দিন ডায়মন্ড হারবার রোডের এই মন্দিরে দেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে সাড়ম্বরে দীপান্বিতা কালীপুজো হয়। এ ছাড়াও রটন্তীকালী ও ফলহারিণী কালীপুজো হয়।

নিস্তারিণী কালী নানেদের কালী মন্দির বলে পরিচিত হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে একটি কাহিনি। সিমলা অঞ্চলে অবস্থাপন্ন ব্যক্তি কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী বিগ্রহের আদলে বারাণসী থেকে নিস্তারিণীর বিগ্রহ তৈরি করিয়ে আনলেও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করতে না পারায়, তাঁর প্রতিবেশী ঈশ্বরচন্দ্র নানের কাছে বিগ্রহটি হস্তান্তর করেছিলেন। পরে ঈশ্বরচন্দ্র নবরত্ন মন্দির তৈরি করে ১৮৬৫ সালে রথযাত্রার দিনে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

দয়াময়ী কালী ১৭৭১ সালে জগদ্ধাত্রী পুজোর দিনে গুরুপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজ স্কোয়্যারের কাছে রাধানাথ মল্লিক লেনে দালান রীতির এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেবীর বিগ্রহটি কষ্টিপাথরের তৈরি। প্রায় দু’ফুট উচ্চতার দেবীমূর্তি কাঠের সিংহাসনের উপর অধিষ্ঠিত। দীপান্বিতা কালীপুজোয় আজও অসংখ্য ভক্তসমাগম হয়।

সিদ্ধেশ্বরী কালী (ঠনঠনিয়া)— সে কালে ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয়েরা একটি ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছিলেন। দূর থেকে ডাকাতদল আসছে দেখলেই ওই ঘণ্টা বাজিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হতো এলাকার মানুষকে। সে দিনের সেই অঞ্চল আজকের ঠনঠনে এলাকা। জনশ্রুতি, ঠনঠন করে সেই ঘণ্টা বাজত বলেই এলাকার নামকরণ হয়েছিল ঠনঠনে। বহু যুগ আগে সেখানেই উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী একটি উঁচু মাটির ঢিপির উপর চালাঘরে পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে কালীসাধনা করতেন।

কাছেই বাহির সিমলা অঞ্চলে থাকতেন রামশঙ্কর ঘোষ, যিনি পরবর্তী কালে শঙ্কর ঘোষ নামে পরিচিত হন। তিনি ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেনিয়ান। শোনা যায়, তাঁর সঙ্গে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারীর যোগাযোগ ছিল। পরে উদয়নারায়ণ কাশী যাওয়ার আগে শঙ্কর ঘোষকে দেবীর দায়িত্ব দিয়ে যান। শঙ্কর ঘোষ সেখানেই পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপর কালীমূর্তি ও ঘট প্রতিষ্ঠা করে একটি মন্দির তৈরি করিয়েছিলেন যা কিনা কালক্রমে হয়ে উঠল ঠনঠনের প্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। মন্দিরের গায়ের ফলকে দেখা যায় বাংলার ১১১০ সনে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল।কিন্তু এ নিয়ে মতান্তর রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শঙ্কর ঘোষ মন্দিরের প্রধান সেবায়েত হলেও পুজোর সঙ্কল্প হত উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারীর নামে। সাবেক রীতি মেনে এখনও তেমনটাই হয়ে আসছে।

মন্দির সূত্রে জানা গেল, দীপান্বিতা কালীপুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী থেকেই। তখন দেবীর বিগ্রহের অঙ্গরাগ করা হয়। ত্রয়োদশীর দিন তাঁকে পঞ্চমুণ্ডির আসনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে দিন স্নান করিয়ে রাতে পরানো হয় লালপেড়ে সাদাশাড়ি। একে বলে ‘কুমারী বেশ’। কালীপুজোর দিন পরানো হয় বেনারসি শাড়ি। এ ছাড়া বছরভর দেবীকে পরানো হয় ভক্তদের দেওয়া নানা ধরনের শাড়ি। ছাপা শাড়ি থেকে শুরু করে সেই তালিকায় থাকে ঢাকাই, কাঞ্জিভরম, তাঁতের শাড়ি সবই।

আর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেবীর বেশির ভাগ গয়না রুপোর, শুধু জিভটি সোনার তৈরি। দেবীর গলায় শোভা পায় ৪১টি রুপোর মুণ্ডমালা। মন্দিরে অন্নভোগ না হলেও কালীপুজোর বিশেষ ভোগে দেওয়া হয় লুচি, আলু-পটল ভাজা, আলুর দম, ধোঁকার ডালনা ও নানা ধরনের মিষ্টি। আজও ভক্তদের মানতের বলিদান হয় এখানে।কার্তিক মাসের অমাবস্যায় বিশেষ পুজো ছাড়াও মাঘ মাসে রটন্তী কালী ও জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালীপুজো হয়। এই মন্দিরে এসেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন, কমলাকান্ত চক্রবর্তী প্রমুখ সাধক।

সিদ্ধেশ্বরী কালী (কুমোরটুলি-বাগবাজার)— বহু বছর আগে কুমোরটুলি অঞ্চলে কালীবর তপস্বী নামের এক সন্ন্যাসী হোগলা পাতার ছাউনির নীচে এই মূর্তি তৈরি করে পুজো করতেন। পরে কুমোরটুলির গোবিন্দরাম মিত্রের পরিবার বর্তমান মন্দিরটি তৈরি করে দেন। শ্রীরামকৃষ্ণ এই মন্দিরে এসেছিলেন। শোনা যায়, নাট্যসম্রাট গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই মন্দিরের দেবীকে ‘উত্তর কলকাতার গিন্নি’ বলতেন। কালীপুজোর রাতে আজও তন্ত্রোক্ত বিধিতে দেবীর পুজো হয়।

তাই পুরোহিত আদা, চানাচুর ও কারণ খেয়ে পুজোয় বসেন। শোনা যায়, আগে নরবলি হত। এখন মানতের পশুবলি হয়। কার্তিকী অমাবস্যা ছাড়াও বুদ্ধ পূর্ণিমায় ফুলদোল এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলহারিণী কালীপুজো সাড়ম্বরে পালিত হয়। রাজা নবকৃষ্ণ দেবের নির্দেশ অনুসারে সে কাল থেকে এ কাল শোভাবাজার বাজার থেকে সব্জি আসে ভোগের জন্য। কালীপুজোর ভোগে থাকে খিচুড়ি,ভাজা, সাদাভাত, ডাল, নানা ধরনের তরকারি, ডালনা, মাছ, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি।

পুঁটে কালী (কালীকৃষ্ণ টেগোর স্ট্রিট)— এখানে পুজো হয় তন্ত্র মতে। পুজোর ভোগে থাকে খিচুড়ি, লুচি, পোলাও, নানা ধরনের তরকারি, পাঁচ রকমের মাছ, চাটনি, পায়েস। এ ছাড়াও থাকে খাস্তা কচুরি আর চানাচুর। কালীপুজোর পরের দিন হয় কুমারী পুজো ও অন্নকূট উৎসব।

জয় মিত্র কালিবাড়ী— ১৮৫০ সালে শোভাবাজার অঞ্চলের বাসিন্দা জয়নারায়ণ মিত্র বরাহনগর-মালপাড়ার কুঠিঘাট অঞ্চলে বারোটি আটচালা শিব মন্দির সহ কৃপাময়ী কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরটি নবরত্ন শৈলীর হলেও প্রথাগত নবরত্ন শৈলীর থেকে কিছুটা আলাদা। বাঁকানো চালের পরিবর্তে দেখা যায় দোতলা দালান মন্দিরের কোণে কোণে চূড়া রয়েছে। শোনা যায়, শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীকে ‘মা’ বলে আর ‘কৃপাময়ী’ ও ‘ব্রহ্মময়ীকে’ মাসি বলে ডাকতেন।

রাজরাজেশ্বরী কালী (জোড়াবাগান)— ব্রিটিশ শাসন কালে বার্ড অ্যান্ড কলিয়ার কোম্পানির বেনিয়ান রামনারায়ণ মিশ্র অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগে তাঁর জোড়াবাগান অঞ্চলে গৌর লাহা স্ট্রিটের বসত বাড়িতে রাজরাজেশ্বরী কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কালীমূর্তিটি কষ্টি পাথরের হলেও শিব মূর্তিটি অষ্টধাতুর তৈরি। কালীপুজো উপলক্ষে বিশেষ পুজো এবং ভক্তসমাগম হয়। এ ছাড়াও এখানে ফলহারিণী কালী ও রটন্তী কালীপুজো হয়।

ফিরিঙ্গি কালী (বউবাজার)— এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অ্যান্টনি কবিয়ালের নাম ও নানা কাহিনি। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল নিয়েও গবেষকদের মধ্যে রয়েছে মতান্তর। কারও কারও মতে এক নমঃশূদ্র ব্যক্তি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে শ্রীমন্ত পণ্ডিত নামক এক ব্রাহ্মণ এই মন্দিরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অন্য একটি মত অনুসারে প্রথমে এখানে ছিল একটি শিবমন্দির। পরে শ্রীমন্ত পণ্ডিত এখানে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই সময় শ্রীমন্ত পণ্ডিত নাকি বসন্ত রোগের চিকিৎসা করতেন। অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান-ফিরিঙ্গি অধ্যুষিত বউবাজার অঞ্চলে তিনি বহু মানুষকে চিকিৎসা করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বহু ফিরিঙ্গি শ্রীমন্ত পণ্ডিতের মন্দিরে পুজো দিতে আসত।

সেই কারণেই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে ফিরিঙ্গি কালী নামটি। জনশ্রুতি এই মন্দিরের পাশের গলিতে থাকতেন অ্যান্টনি সাহেবের মামা অ্যারাটুন সাহেব। সেখানে যাতায়াত থাকায় মাঝে মাঝে অ্যান্টনি সাহেব নাকি মন্দিরের চালায় বসে গান গাইতেন। মতান্তরে তিনি নাকি একটি কালী মূর্তি গড়ে এই মন্দিরে বসিয়ে দিয়েছিলেন। শোনা যায়, মন্দিরের পুরনো মূর্তিটি ছিল মাটির। ১৯৪৬-এর দাঙ্গায় পুরনো মূর্তিটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ১৯৮৭ সালে কংক্রিটের মূর্তিটি তৈরি করা হয়। কালীপুজোয় আজও বহু ভক্ত সমাগম হয় এখানে।

গোহোদের কালীমন্দির (বৃন্দাবন বোস লেন)— বাংলার ১২৫৭ সালে ফাল্গুন সংক্রান্তিতে নিস্তারিণী কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিবচরণ গুহ। দালান রীতির এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে একচালা শিবের মন্দির। আগে প্রতি অমাবস্যায় বলিদান হলেও এখন প্রতিষ্ঠাদিবসে এবং কালীপুজোয় মন্দিরের তরফে বলি হয়। এ ছাড়াও হয় ভক্তদের মানতের বলি। অন্নভোগ না হলেও লুচিভোগ দেওয়া হয়। প্রতি দিন ভোরে হয় মঙ্গলাআরতি। দীপান্বিতা অমাবসায় যখন বিশেষ পুজো হয় তখন দেবীকে দিগম্বরী রূপে পুজো করা হয়। পুজো শেষে দেবীকে বেনারসি শাড়ি পরানো হয়।

আনন্দময়ী কালীমন্দির (রামদুলাল সরকার স্ট্রিট) — কলকাতার ব্যতিক্রমী কালীমন্দিরগুলির মধ্যে এই মন্দিরটির কথা উল্লেখ্য। স্থাপত্য শৈলীতে দালান শৈলীর মন্দির। তবে দেবীর মূর্তি ব্যতিক্রমী। কলকাতার মধ্যে এটি সম্ভবত একমাত্র প্রাচীন বসাকালীর মূর্তি। রামদুলাল সরকার স্ট্রিটের মতিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলে ঘেরা একটি জায়গায় মাটির কালীমূর্তি দেখতে পান। স্থানীয় মিত্র পরিবার সেই কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য জমি দান করেছিল। প্রতিবছর কালীপুজোর আগে অঙ্গরাগ করা হয়।



আমহার্স্ট স্ট্রিট সর্বজনীন কালীপুজো: জাঁকজমক কমলেও সাবেক ঐতিহ্যে অটুট এই পুজোয়। ষোলো ফুটের প্রতিমা সাজে সোনার গয়নায়। আলোয় সাজানো রাস্তা। সোমেন মিত্রের পুজো নামেই এটি পরিচিত।

নবযুবক সঙ্ঘ: সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের এই পুজোর প্রতিমা উনিশ ফুট। শিল্পী মাধব পালের তৈরি প্রতিমা। মূল প্রবেশপথ কেশব সেন স্ট্রিটে। আজও লোকমুখে ফাটা কেষ্টর পুজো নামে এর পরিচিতি। শিল্পী আনিয়ে জলসা পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।

একতা সঙ্ঘ: আমহার্স্ট স্ট্রিটের এই পুজোয় প্রতিমা সাবেক। সোনার গয়নায় সজ্জিত। মণ্ডপের কোনও বাহুল্য নেই।

যুবশ্রী: আমহার্স্ট স্ট্রিটের এই পুজোটিও সাবেক। চন্দননগরের আলোয় সেজে উঠছে এলাকার বাড়ি এবং রাস্তা।

বালক সঙ্ঘ: এ বছর ৬৪ তম বর্ষ। শ্রদ্ধানন্দ পার্কের কাছে এই পুজোর প্রতিমাও শ্যামাকালী।

রয়্যাল ক্লাব: আমহার্স্ট স্ট্রিট ও মহাত্মা গাঁধী রোডের সংযোগস্থলের সাবেক পুজো।

বৈঠকখানা ব্যবসায়ী সমিতি এবং পল্লিবাসী সমন্বয় কমিটি: বৈঠকখানা রোড ও রামনাথ বিশ্বাস লেনের মোড়ের এই পুজো স্থানীয় কাগজ ব্যবসায়ীদের। চালচিত্র-সহ মূর্তি ১৭ ফুটের।

পল্লিকল্যাণ সমিতি: বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট সংলগ্ন নবীন চাঁদ বড়াল লেনের পুজোটি শুরু করেন এলাকার স্বর্ণকাররা। এ বার ৭১ বছর। বর্তমানে দায়িত্বে যাত্রিক ক্লাব। সোনার জিভ, মুকুট-সহ সোনার গয়নায় সাজে প্রতিমা।

নবরবীন সঙ্ঘ: পটুয়াতলা লেনের ৫৭ বছরের এই পুজোয় ষোলো ফুটের সাবেক প্রতিমা সাজবে সোনার গয়নায়।

মধ্য কলকাতা সর্বজনীন শ্যামাপুজো: ৭৩তম বর্ষের এই পুজো হয় কোলে মার্কেটের বিপরীতে ফরডাইস লেনে। সোনার গয়না, রুপোর মুকুটে সজ্জিত প্রতিমা।

খেয়ালি খেলাঘর (কলেজ স্ট্রিট): ১৭৮ বছরের পুরনো কলেজ স্ট্রিটের এই পুজোয় প্রতিমাকে পরানো হয় সোনার গয়না। এই পুজোয় যাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-সহ বিসর্জন হয়।

হাতিবাগান সর্বজনীন শ্রীশ্রী শ্যামা পুজো: ৭২ তম বর্ষে বাটাম, কাপড় ও থার্মোকল দিয়ে মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। মুকুট সমেত সাবেক প্রতিমা ১৪ ফুটের। উদ্বোধনের দিন হবে যাত্রানুষ্ঠান। এ বারের যাত্রা ‘নটী বিনোদিনী’।

পাথুরিয়াঘাটা সর্বজনীন কালী পুজো: শুরু ১৯২৮ সালে। পরিচালনায় পাথুরিয়াঘাটা ব্যয়াম সমিতি। পুজো হয় স্থায়ী মণ্ডপে। মাটি থেকে মুকুট পর্যন্ত সাবেক প্রতিমার ২৭ ফুটের। প্রতিমা গড়া হয় ট্রলিতে। হাতে থাকে পাঁচ ফুটের রুপোর খাঁড়া, রুপোর মুণ্ডু ও চাঁদমালা। বর্ধমান থেকে আসে আট ফুটের শোলার মুকুট। গয়না সোনার। ধুতি ও লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে এলাকাবাসী বিসর্জনের শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী শ্যামাপুজো: বদ্রিদাস টেম্পল স্ট্রিটের এই পুজোর ৭৬ তম বর্ষ। প্লাই ও গাছকৌটোয় সাজছে মণ্ডপ। তেরো ফুটের প্রতিমা। থাকছে ডাকিনী-যোগিনী।

আহিরীটোলা সর্বজনীন কালীপুজো: ৮১ বছরের এই পুজো সাবেক। সোনার অলঙ্কারে ভূষিত শ্যামাকালী এগারো ফুটের।

রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান সর্বজনীন কালীপুজো: রতনবাবু ঘাট বা রামকৃষ্ণ মহাশ্মশানের গা ঘেঁষে হয় এই পুজো। তন্ত্রমতে পুজোর চার প্রহরে চারটি বলি হয়। সোনা-রুপোর অলঙ্কারে সজ্জিত প্রতিমা শ্মশানকালী। অন্নকূট হয়।

দমদম-নাগেরবাজার

আমরা মিলেছি: ৬১ তম বর্ষের এই পুজোয় মণ্ডপ হচ্ছে আলমোড়ার মন্দির। পিতল ও কাঠ দিয়ে হবে মণ্ডপসজ্জা। ঝুলবে মানতে বাঁধা সুতো।

হরকালী কলোনি অধিবাসী বৃন্দ: ৫২ তম বর্ষের নিবেদন গুহায় মন্দির। দর্শকদের খানিকটা উঁচুতে উঠতে হবে। কাপড়, থার্মোকল, কাঠ দিয়ে হবে মণ্ডপ।

মিলন পরিষদ ক্লাব: দু’নম্বর টানোয়ার কলোনির মণ্ডপ হচ্ছে লোটাস মন্দিরের আদলে। জলের ওপরে লোহা ও ফাইবারে তৈরি হবে মণ্ডপ।

সন্তান সঙ্ঘ: কাল্পনিক স্বর্গ। স্বর্গের কাল্পনিক পরিবেশ হবে মণ্ডপে।

উত্তরায়ণ ক্লাব: দমদম কুণ্ডুবাগানের থিম রাজস্থানের মরূভূমি।

জ’পুর জয়শ্রী সঙ্ঘ: বাঁকুড়ার পোড়া মাটির শিল্প ও ছো শিল্পের আদলে প্লাই, দড়ি, পোড়ামাটির জিনিসে মণ্ডপ।

দক্ষিণ দমদম মিত্র সঙ্ঘ: শীল বাগানের মণ্ডপ ৭৫ ফুটের কাল্পনিক মন্দির। ফোয়ারা ও আলোয় সাজবে।

খামখেয়ালী সঙ্ঘ: ঘোষপাড়ার এই মণ্ডপ সাজছে টিন ও অ্যালুমিনিয়ামের পাতে তৈরি কাল্পনিক মন্দিরে।

এম সি গার্ডেন, তরুণ সঙ্ঘ: প্লাইউড দিয়ে কাশী বিশ্বনাথের মন্দির।

দমদম যুবকবৃন্দ, ১ নং মল্লিক কলোনি: ‘দেবীভূমি’। দেওয়াল চিত্রে মণ্ডপ। ব্যবহার হচ্ছে মাটি, খড়।

বন্ধুবান্ধব ক্লাব: মাড়োয়ারি বাগানের এই পুজোয় প্লাই, বাঁশ, কাপড় দিয়ে তৈরি হবে মণ্ডপ।

যুবকবৃন্দ, মন্দির রোড: মণ্ডপ কাল্পনিক মন্দিরের আদলে। ঝুড়ি ও ফাইবারের ব্যবহার থাকছে।

দুর্গানগর যুবগোষ্ঠী: থিম, পরিবেশ। দেখানো হবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও তার মোকাবিলার ঝলক।

মিলন সঙ্ঘ: দমদম পি কে গুহ রোডের এই পুজো সাবেক।

মধ্যমগ্রাম-বিরাটি

মধ্যমগ্রামের কালীপুজো: মাইকেলনগর নেতাজি সঙ্ঘ বাঁশ দিয়ে গড়ছে নেপালের প্যাগোডা। শিবকালী ও কৃষ্ণরূপে প্রতিমা। চন্দননগরের আলোয় থাকছে সবুজ সাথী, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প, পশু, পাখি।

বসুনগর যুবকবৃন্দ অ্যাথলেটিক ক্লাব: সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। পেখম মেলা ময়ূরের শৈলীতে মণ্ডপ। দু’পাশে শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদা মা। পুকুরে ঝরনা।

ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাব: সুভাষ ময়দানে হচ্ছে চিনের প্যাগোডা। প্লাস্টিকের বোতল আর ছিপি দিয়ে মণ্ডপ। সাবেক প্রতিমা।

নবজাগরণ সঙ্ঘ: গঙ্গানগর-দোলতলা দক্ষিণপাড়ার এই পুজোর এ বার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে লালপাহাড়ির দেশ। প্রতিমা আদিবাসী রমণী।

গঙ্গানগর নেতাজিনগর অধিবাসীবৃন্দ: পঁচিশ বছরে থিম পুরোনো মন্দির। মানাসই প্রতিমা।

মহাজাতি উদয়ন সঙ্ঘ: ঋষি অরবিন্দ পার্কের এই পুজোয় খালের উপর বাঁশের সাঁকো। মেঠো পথ। জোনাকি জ্বলছে, ঝিঁঝিঁ ডাকছে। মণ্ডপ শ্যামনগরের মন্দির।

অগ্রদূত সঙ্ঘ: মাদুরাইয়ের মিনাক্ষী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। প্রতিমা কাচের।

বসুনগর মৈত্রী সঙ্ঘ: চোখের আদলে মণ্ডপ। মানানসই প্রতিমা।

বোসনগর প্রতাপ সঙ্ঘ: অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণ। মানানসই প্রতিমা ও আলোকসজ্জা।

একত্র সঙ্ঘ: পাহাড়ে উঠে প্রতিমা দর্শন করতে হবে। প্রতিমা সাবেক।

দেবদাসপল্লি উদয়ন সঙ্ঘ: আগুনের বলয় থেকে দেবী আসবেন। আলোর বিভিন্ন কারুকাজ থাকবে।

চণ্ডীগড় ইউনাইটেড অ্যাথলেটিক ক্লাব: বাঁশ, কাপড়, থার্মোকল দিয়ে হচ্ছে কাল্পনিক মণ্ডপ। মহাভারতের বিভিন্ন মডেলে সাজছে দেবী।

ইয়ং সেন্টার: সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে থিম, শিশু শ্রম। ঝিনুক দিয়ে হচ্ছে মণ্ডপ।

মেঘদূত শক্তি সঙ্ঘ: মহারাষ্ট্রের একটি মন্দির। প্লাইউডের কারুকাজ। রামায়ণ-মহাভারতের থিমে প্রতিমা।

দোহারিয়া শৈলেশনগর যুবক সঙ্ঘ: থিম, রামায়ণ। দেবীর দু’পাশে রামায়ণের দৃশ্যাবলি। আলোয় তৈরি হচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

পূর্বাশা যুব পরিষদ: থিম, বিশ্ব বাংলা ট্রেন। বাতানুকূল ট্রেনে উঠে ঠাকুর। বাংলার প্রগতির ঘটনাবলি।

শ্রীনগর ২ নম্বর অধিবাসী বৃন্দ: মানুষকে সচেতন করতে সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ-এর প্রয়াস।

বিধানপল্লি যুবগোষ্ঠী: কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত কালীর নানা রূপ দেখা যাবে।

চৈতালি উদ্যান কিরণ পার্ক অধিবাসীবৃন্দ: থিম, অঞ্জলি। পুজোর উপকরণে সাজছে মণ্ডপ।

নবারুণ সঙ্ঘ: তালপাতা ও তালগাছের বিভিন্ন অংশে হচ্ছে মণ্ডপ।

সুভাষপল্লি অধিবাসীবৃন্দ: টোপরের মণ্ডপ। মাটির মডেলে গণবিবাহের বিভিন্ন রূপ দেখা যাবে।

রবীন্দ্রপল্লি অ্যাথলেটিক ক্লাব: মাদুরের মণ্ডপ। দর্শকরা দেখবেন দক্ষযজ্ঞ। থাকছে আলোর ছয়টি গেট।

সাহারা অধিবাসীবৃন্দ: কাল্পনিক মন্দির। সাবেক প্রতিমা।

সল্টলেক

মৈত্রী সঙ্ঘ: সিএফ ব্লকের পুজোয় জমিদারবাড়ির নাটমন্দির। থাকছে মানানসই আলোকসজ্জা। এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত জানান, প্রতি বছরের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও থাকবে চমক।

বলাকা স্পোর্টিং ক্লাব: বিডি ব্লকের পুজোর আকর্ষণ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। চালচিত্র-সহ ২০ ফুটের প্রতিমা।

নয়াপট্টি আদিত্য স্মৃতি সঙ্ঘ: নয়াপট্টির এই পুজোয় মণ্ডপ হচ্ছে পাটজাত দ্রব্যে। কালীর দশ হাত।

সুকান্তনগর সেন্টার ফর কালচার অ্যান্ড স্পোর্টস: সুকান্তনগরের পুজো এ বার ২৫ বছরে। মাদুর দিয়ে হচ্ছে মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। থাকছে মানানসই আলোকসজ্জা।

জিডি ব্লক: ৩৩ বছরের এই পুজোয় মণ্ডপ ও প্রতিমা সাবেক। থাকছে মানানসই আলোকসজ্জা।

বাগপাড়া যুবক সঙ্ঘ: মন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও সাবেক প্রতিমা। আলোকসজ্জায় আইফেল টাওয়ার।

সুকান্তনগর স্পোর্টিং ক্লাব: বুদ্ধমন্দিরের আদলে মণ্ডপ ও প্রতিমা। থাকছে মানানসই আলোকসজ্জা।