ধনতেরাসের ইতিহাস

এসে গেল বছরের সেই সময়টা। একেবারে সোনায় মোড়া সময় যাকে বলে। এই সময় ধনদেবী তাঁর দু’হাত ভরে সম্পদে ভরে দেন সন্তানদের। সোনা কিনলে সৌভাগ্য আসে জীবনে। সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে সংসার। এই দিনটায় তাই সকলেই চান নিজের জন্য, পরিবারের জন্য কিছু না কিনতে। তবে শুধু সোনা নয়। এই সময় নিজের সাধ্য মতো কিনতে পারেন রুপো, বাসন বা ঘরের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও। দেখে নিন কী কী কিনতে পারনে এই বিশেষ দিনে।

সোনা

ধনতেরাস মানেই সোনা কেনার সময়। নিজের সম্পদ বাড়ানোর সময়। গোল্ড বার, গোল্ড কয়েন কিনে রাখতে পারেন এই সময়। সোনার দোকান থেকে যেমন কিনতে পারনে তেমনই ব্যাঙ্ক থেকেও কিনতে পারেন।

সোনার গয়না

কালীপুজোর পরই শুরু হয়ে যায় বাঙালিদের বিয়ের মরসুম। বছরের এই সময়টায় যেহেতু হলমার্ক সোনার ওপর সবচেয়ে বড় ছাড় পাওয়া যায় তাই ধনতেরাসের সময়ই বিয়ের গয়না কিনে রাখেন অনেকে। আবার অনেক পরিবারে এই দিনে গয়না কেনার রেওয়াজও রয়েছে। সোনার ভারী বালা, ভারী নেকলেস মিলিয়ে ৫০-৬০ হাজার বিল হলেই বিভিন্ন বিপণিতে দেওয়া হয় বিভিন্ন ওজন ও মূল্যের সোনার কয়েন। এ ছাড়াও সোনার গয়নার মজুরির ওপরও প্রায় ২৫ শতাংশ ছাড় থাকে ধনতেরাসের সময়।

যারা ভারী গয়না কিনতে চান না তারাও ধনতেরাসের সময় গয়না কিনতে পারেন। হালকা কানের দুল বা পেন্ডেন্ট কিনতে পারেন যে কোনও বড় সোনার বিপণি থেকে। ধনতেরাস উপলক্ষে গণেশ পেন্ডেন্ট, স্বস্তিক পেন্ডেন্ট, ওঁ পেন্ডেন্ট পাওয়া যায়। যে কোনও অনুষ্ঠানে হালকা সাজের সঙ্গে পরতে পারেন এই সব গয়না। আবার সব সময় পরে থাকার জন্যও ভাল এই সব হালকা পেন্ডেন্ট।

গোল্ড ইটিএফ

এই সময় সোনা কেনা সৌভাগ্য, সমৃদ্ধির লক্ষণ। কিন্তু যদি আপনার সোনা কেনার বাজেট না থাকে তাহলে বিনিয়োগ করতে পারেন গোল্ড ইটিএফে। সোনা কিনতে যা টাকা লাগে তার থেকে স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করতে অনেকটাই কম টাকা লাগে। উপরন্তু আপনি নিজের সাধ্য মতো টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। স্টক মার্কেটে সোনার দাম ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে আপনার লাভের পরিমাণ। সোনার দাম এখন উর্ধ্বমুখী, তাই গোল্ড ইটিএফ কেনা খুবই লাভজনক।



হিরে

সময়টা ধাতু কেনার। তাই সোনার মতো অতটা চাহিদা না থাকলেও যাদের বাজেট একটু বেশি তারা অনেক সময় হিরের গয়নার দিকেও ঝোঁকেন এই সময়। বিভিন্ন সোনার দোকানে এই সময় হিরের গয়ানর মজুরির ওপর ছাড় দেওয়া হয়। যারা একটু শৌখিন আবার বাজেটটাও বেশি প্ল্যাটিনামের ওপর হিরে বসানো গয়নাও কেনেন ধনতেরাসে।

রুপো

সোনা যেমন বিক্রি হয় তেমনই বছরের এই সময়টায় রুপোর বিক্রিও সবচেয়ে বেশি থাকে। লক্ষ্মী, গণেশের রুপোর কয়েনের পাশাপাশি রুপোর তৈরি পুজোর বিভিন্ন সামগ্রীও অনেকে কেনেন এই সময়। এর মধ্যেই রয়েছে রুপোর বিল্বপত্র, রুপোর ধানের ছড়া, মঙ্গল ঘট, কুলো, গাছকৌটো। আবার রুপোর গয়নাও কেনেন অনেকে। বড় রুপোর ঝুমকো, নেকলেস, পায়ের তোড়া কিনতে পারেন। সোনার মতো অত দামীও নয়, আবার সুন্দর গয়নাও কেন হয়।

বাসনপত্র

যদি সোনা, রুপোর দাম খুব বেশি মনে হয় তাহলে শুধুমাত্র ধনতেরাসের খাতিরে জোর করে সোনা কেনার কোনও মানে হয় না। যে কোনও ধাতু কিনতে পারেন। বাড়িতে একটা রুপোর বাসনের সেট রাখতে চান অনেকেই। এই সুযোগে কিনে নিতে পারেন। এই সময় রুপোর যে কোনও জিনিসের ওপর ছাড় থাকে। যদি রুপোর বাসন না কিনতে চান তাহলে প্রয়োজনীয় স্টিলের বাসন কিনতে পারেন। এই সময় অনেক দোকানে বাসনপত্রের ওপরও ছাড় থাকে।

অ্যাপ্লায়েন্সেস

ধনতেরাস মানেই গয়না বা ধাতু কেনা নয়। এই দিনটা সমৃদ্ধির প্রতীক। তাই এই সময় কিনতে পারনে বাড়ির বা রান্নাঘরের কোনও প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লায়েন্সও। টেলিভিশন, রেফ্রিজরেটর, মাইক্রোওয়েভ, ওয়াশিং মেশিন এমনকী, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেটও। বিভিন্ন দোকানে এই সময় ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট, হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ওপর ছাড় দেওয়া হয়। অনলাইন শপিং পোর্টাল থেকেও কিনতে পারেন।