শিউলি ফুল - ছবি

শিউলি আমাদের অতি পরিচিত ফুল। অনেক লেখলেখি হয়েছে এই ফুল নিয়ে। আমি আর নতুন অরে কিছু লিখতে পারবোনা জানি। তারপরও গত শরতের এক সকালে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়ে পিচের রাস্তার উপর শিউলি ঝরে থাকতে দেখে সুনীলের কবিতার লাইনটা মনে পড়ে গিয়েছিলোঃ শিউলি আমাদের নিজস্ব ফুল। রবীন্দ্রনাথ বলতেন শেফালি । বৈজ্ঞানিক নাম নিকান্থেস আরবরত্রিস্তিস। ভারত বর্ষেই এদের আঁদিবাস। দক্ষিণ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এটি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে । শরতের শুরু থেকে হেমন্ত অব্দি শিউলি ফোটার দিন সময়।

শিউলির জন্যে খুব বেশি জায়গা লাগেনা। বাগানের কোনে, গেটের ধারে শিউলি গাছ দাঁড়িয়ে থাকে নিরবে নিভৃতে। এরা তিন থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। মাথার দিকে একটু ঝাকড়া হয়ে নিচে ঝুঁকে পড়ে। গোড়ায় পানি জমে গেলে শিউলি গাছকে বাঁচানো মুস্কিল। ফুল আসার আগে খুব একটা নজরে পড়েনা। ফুল এলে ঘাস, মাটি এমনকি বাতাসও তা টের পায়। পারফিউম শিল্পের মালিকদের কাছে আগেই নাইট জেসমিনের (শিউলির ইংরেজি নাম) কদর ছিলো। আজকাল ওষূধ শিল্পেও শিউলির নাম ছড়াচ্ছে।



মুলতঃ পাঁচ (সাত পাপড়িও হয়) পাপড়ির শিউলি্র সাদা মোমের মত রং। অনেকাটা চরকার মত পাপড়ির বিন্যাস। কমলা রঙের বৃন্ত ফুল গুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। দিনের বেলা ফুলে ছাওয়া গাছ দেখা প্রায় অসম্ভব, তবে কুয়াশার দিনে বেশ কিছু ফুল দেখা যেতে পারে, আজ সকালে যেমন আমি দেখেছি।
শিউলির পাতা খানিকটা বট পাতার মত, তবে অগ্রভাগ অত সরু নয়। বরং বলা যায় পান পাতার সাথেও বেশ মিল আছে। ফল গুলি গোলাকার, চ্যপ্টা অনেকটা খাবার ট্যাবলেটের মত।

শিউলির উপযোগিতা আর উপকারিতার শেষ নেই। শিউলির পাতার রস পিত্ত, কফ, ব্যাথা, ও পুরনো জ্বরের জন্যে উপকারি। টাটকা রসে্র সাথে মধু মিশিয়ে খেলে কৃমি দূর হয়। পাপড়ি বেটে আদার রস মিশিয়ে খেলেও জ্বর কমে। বীজের গুড়ো মাথায় দিলে খুশকি কমে। কিভাবে ব্যবহার করতে হবে বলতে পারবোনা। সে সব জানে কবিরাজ আর অন্তর্জাল। এছাড়া নানান রকম এন্টি ভাইরাল ও এন্টি ফাঙ্গাল ওষুধ তৈরিতে ইই ফুল ব্যবহার করা হয়। এসেন্স ও রং তৈরির কাজে অনেক আগে থেকেই এই ফুল ব্যবহার করতে হয়।