টুইলাইট

টুইলাইট ভ্যাম্পু আর অসাধারন ফুলের গন্ধওয়ালা এক মেয়ের প্রেমের কাহিনী। মেয়ের শরীরের গন্ধটা অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয় পুরা বইতেই। সব পুরুষের স্বপ্ন থাকে এক দুর্দশা গ্রস্থ মেয়েকে উদ্ধার করার। বইটার শুরুতেই নায়ক কর্তৃক অসাধারন এক উদ্ধার অভিযান করা হয়।

বইটা ভালো। সুন্দর করে লেখা। বর্ননাগুলো ভালো, বিস্তারিত। রোমান্টিক কিছু দৃশ্য আছে। নায়কের অসাধারন রূপের বর্ননা বার বার এসেছে। পারলে লেখিকা স্টেফানি মেয়ার প্রতিটা চুলের বর্ননা দেন। এডওয়ার্ড এর মুখের গড়ন, জামা, হাসি কতকিছুর যে বর্ননা আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। বেলা'র কোন রূপের বর্ননা দেয়া হয় নাই। যেমন আমরা জানি এডওয়ার্ডের উপরের চুল ছোট কিন্তু নিশ্চিত করা বলা যায় না বেলার কোন চুল ছোট।

এডওয়ার্ডের শরীরের প্রতিটা পেশীর বর্ননা আছে কিন্তু বেলার বর্ননা নাই। আর কত বড় বলদ এডওয়ার্ড। রক্তের প্রতি তার মূল টান অথচ প্রচুর রক্তঅলা মোটাসোটা কোন একটা নারীর প্রতি তার আকর্ষন জন্মায় নাই। ব্যাটায় পাগল হলো বেলার জন্যে। এছাড়া দাদার বাপের বয়সী পোলার সাথে ১৭ এর মেয়ের প্রেম কেমুন কেমুন জানি লাগে।

শেষের দৃশ্যে প্রমে বেলার ল্যাংড়া পা নিয়ে উপস্থিতি। সব শেষের ক্লাইম্যাক্সের কথা আলাদা করা বলা দরকার। বেদের মেয়ে জোসনাতেই এই দৃশ্য আছে। নায়ক সাপের কামড় খেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে আছে। সাপুড়ে আর তার মেয়ে এসেছে নায়ককে উদ্ধার করতে। ৪০ বছর ধরে সাপুড়ের কাজ করে বৃদ্ধ বাপ । কোনদিন তার যা হয় নাই তাই হয়েছে এখন। সে ভ্যাবদা মেরে বসে আছে, কিভাবে বাচাবে লায়ককে? তখন তার কুড়ি বছরের মেয়ে তুলে নেয় বিশেষ নাগের জন্য প্রস্তুত দুই বিরক্তিকর ডান্ডা বের হয়ে আসা বিশেষ বাশী যা গত একশত বছরে কেউ বাজায় নি। বাপ পারে না বাজাতে কিন্তু প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নায়িকা বাজিয়ে ফেলে।

বেলা ভ্যাম্পু মামার কামড় খেয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। ৩৫০ বছরের বুড়া ভ্যাম্পু বাপ পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বিষ নামানোর জন্য এডু ভাইকেই ডাকা হলো। এডু ভাইয়ের ভয় একবার রক্তের স্বাদ পেলে সে থামতে পারবে না। কিন্তু প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এডু ভাই সে কাজ সমাপ্ত করে ফেলে। এই চাপ্টারট পড়ার সময় বেদের মেয়ের কথা বার বার মনে পড়েছে। সে দুই ডান্ডাঅলা বিশেষ বাশীটার পো পো আওয়াজ বড় মিস করেছি।

ভ্যাম্পায়ার এডওয়ার্ড, মানবী বেলা এবং ওয়ারউলফ জ্যাকবের ত্রিমুখী প্রেমকাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাসের নতুন কাহিনী 'নিউ মুন' ইক্লিপস' এবং ব্রেকিং ডন' ও পেয়েছে আশাতীত জনপ্রিয়তা । চারটি উপন্যাস নিয়েই নির্মিত হয়েছে সিনেমা । স্টেফানি মেয়ারের জন্ম ১৯৭৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর হার্ডফোর্ডে । তিনি মূলত একজন আমেরিকান লেখিকা, যিনি তরুণ তরুণীদের জন্য সিরিজ লিখে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ।

তার আরেকটি পরিচয় আছে, তিনি একজন চলচ্চিত্র প্রযোজকও বটে । তার লেখা টুইলাইট সিরিজের বইগুলো বিশ্বজুড়ে আশাতীত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এ বইগুলো সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে । শুধু তাই নয়, বিশ্বের প্রায় ৪০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রোমান্স ও ফ্যান্টাসিধর্মী টুইলাইট সিরিজের বইগুলো । ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আমেরিকার বেষ্ট সেলিং লেখক হয়েছেন । আর ওই দুই বছরে শুধু যুক্তরাষ্টেই তার বই বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২৯ মিলিয়ন এবং ২৬.৫ মিলিয়ন কপি ।